The Dark Story of Nth Room

এটি ছিল এক ধরণের ডার্ক ওয়েব লেভেল অ্যাক্টিভিটি যা সারফেস ওয়েবে ঘটছিল। অনেক সময় এমন হয় যে আমরা অনলাইনে অপরিচিত ব্যক্তির সাথে কথা বলি, তার সাথে ছবি বা ভিডিও শেয়ার করি এবং ভাবি যে আমরা যা করছি তা সবই ভার্চুয়াল,  জীবনে কোনও ক্ষতি হবে না। অথবা আমরা কোনও অ্যাপে লগ ইন করি, ব্যক্তিগত বিবরণ রাখি এবং ভুলে যাই যে ইন্টারনেটে সবকিছু ট্র্যাক করা যায়।

আমরা মনে করি এটা খুব একটা বড় ব্যাপার নয়, কিন্তু এটা কি সম্ভব যে ছোট্ট একটা ভুল আপনার জীবন নষ্ট করে দিতে পারে? ইন্টারনেটের আড়ালে লুকিয়ে থাকা দানবরা কি আপনার ব্যক্তিগত তথ্য কেড়ে নিয়ে আপনার জীবন নষ্ট করে দিতে পারে? আর এটা কি সম্ভব যে এমন একটি চ্যাট রুম যেখানে মানুষকে বিনোদন এবং আনন্দের জন্য বছরের পর বছর ধরে নির্যাতন করা হয়, যেটি সকলের অজান্তেই চলতে থাকে? মানুষ কি এই ডিজিটাল জগতে এতটাই পতিত হতে পারে যে তারা টাকা এবং আনন্দের জন্য যেকোনো সীমা অতিক্রম করে? এই সব সম্পর্কে চিন্তা করা আমাদের পক্ষে কঠিন হতে পারে। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ায় এমন একটি ঘটনা ঘটেছে যেখানে হাজার হাজার মেয়ে এবং মহিলাকে যৌন নির্যাতন করা হয়েছিল। তাদের ভিডিওগুলি আড়াই লক্ষেরও বেশি দর্শকের সাথে শেয়ার করা হয়েছিলো।

হ্যাঁ ঠিক শুনেছেন, ভিডিওগুলি ২,৫০,০০০ এরও বেশি দর্শকের সাথে শেয়ার করা হয়েছিল। এটি ছিল NTH ROOMS এর ঘটনা। এমন একটি অনলাইন নরক যেখানে টাকার বিনিময়ে মানবতা বিক্রি করা হয়েছিল।

এই সবকিছুই শুরু হয়েছিল একটি ছোট হ্যাক দিয়ে এবং শেষ হয়েছিল সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাগুলির মধ্যে একটি দিয়ে। একদিন, কোরিয়ান পুলিশ একটি ইঙ্গিত পায় যে সারফেস ওয়েবে ডার্ক ওয়েব কার্যকলাপ চলছে। যা ঘটে চলছিলো টেলিগ্রাম অ্যাপে।

টেলিগ্রাম বিশ্বের ষষ্ঠ সর্বাধিক ডাউনলোড করা অ্যাপ এবং বিশ্বব্যাপী এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। তাই এমন একটি অ্যাপ যা বিশ্বের মানুষ সাধারণত প্রতিদিন ব্যবহার করে, এতে এই স্তরের কার্যকলাপ চলছে তা বিশ্বাস করা বেশ অবিশ্বাস্য ছিল। পুলিশ যখন আরও তদন্ত করে, তখন তারা জানতে পারে যে এগুলি সত্যিই ঘটছে।

আর এটা জানার পর, পুলিশ গোপনে এই চ্যাট রুমগুলিতে প্রবেশ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই চ্যাট রুমগুলি ছিল ডিজিটাল নির্যাতন কক্ষ। এই টেলিগ্রাম গ্রুপের এডমিনরা মেয়েদের টার্গেট করত।

বেশিরভাগই নাবালিকা, স্কুল ও কলেজের মেয়ে, এমনকি কর্মজীবী ​​মহিলারাও। এডমিনরা প্রায়শই চাকরির প্রস্তাব বা ভুয়া মডেলিং এর অফারের নামে এই ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলতে শুরু করে। এবং তারপরে তারা তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে তাদেরকেই ব্ল্যাকমেইল করে।

এবং তারপর তারা তাদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে এবং ভুক্তভোগীদের ব্ল্যাকমেইল করার জন্য সেগুলো ব্যবহার করে। ব্যক্তিগত চ্যাট, ব্যক্তিগত ছবি, ব্যক্তিগত ভিডিও, এডমিন সবকিছুই বের করে নিত। এবং তারপর এগুলো ব্যবহার করে সেই মেয়েদের ব্ল্যাকমেইল করত।

একজন ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে,

"একটি চ্যাটরুমে প্রায় ১৫০টি ভিডিও ছিল। আমার মনে হয় একটি ভিডিও প্রায় ৩ মিনিটের ছিল। তাঁরা (গ্রুফের ভিউয়ার) ১,০০০ জনের মতো ছিল।

বেশিরভাগই নগ্ন ছবি,ভিডিও ছিল অথবা স্কুলের পোশাক পরা ছিল। অনেক ভুক্তভোগী ছিল যাদের দেখতে মাধ্যমিক এবং উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের মতো ছিল। এমনও ভুক্তভোগী ছিল যাদের দেখতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের মতোও ছিল।"

এইসব তোমার পরিবারকে বলে দিবো, তোমার চাকরি চলে যাবে, সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে। এই সব হুমকি ওই টেলিগ্রাম গ্রুপের এডমিনরা সেই ভুক্তভোগীদের দিতো সেই নিষ্পাপ মেয়েদের উদ্দেশ্যে যাদের তারা টার্গেট করেছিল।

ভুক্তভোগীদের তাদের নগ্ন ভিডিও তৈরি করতে এবং অনেক বিরক্তিকর কাজ করতে বাধ্য করা হত। যেমন ছুরি দিয়ে তাদের শরীরে দাসী লেখা। সূঁচ দিয়ে তাদের গোপনাঙ্গে ছেদ করা।

এবং তারপর জনসমাগমপূর্ন স্থানে গিয়ে অপমানজনক কাজ করা। এবং সেই ভুক্তভোগীদের সবকিছুর প্রমাণ পাঠাতে হতো এডমিনদের কাছে। বেশিরভাগ সময় এই সবকিছুই লাইভ স্ট্রিম বা রেকর্ড করা হতো।

আর এই স্ট্রিমগুলি সেই অ্যাডমিনদের তৈরি চ্যাট রুমগুলিতে শেয়ার করা হতো। এই সমস্ত রেকর্ড করা ভিডিওগুলি শেয়ার করা হতো। কিছু টেলিগ্রাম রুমে, ভুক্তভোগীকে দাসী চুক্তিতে (Slave Contract)  স্বাক্ষর করতে বলা হতো।

দাসী চুক্তি (Slave Contract) এমন একটি চুক্তি যার নিয়মানুযায়ী ভুক্তভোগীরা তাদের পুরো জীবন এডমিনরের নিয়ন্ত্রণে বিলিয়ে দিবে। মূলত, এই দাস চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী ভুক্তভোগীর পুরো জীবন সেই চ্যাট রুমগুলির অ্যাডমিনের নিয়ন্ত্রণে থাকতে হতো। এই চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী বেশিরভাগ মেয়েই ছিল নাবালিকা।তাই তারা জানতও না যে তারা কোন স্তরে আটকা পড়ছে।

তোকে যা বলা হবে তাই করতে হবে। যদি তুই অস্বীকার করিস, তাহলে সবকিছু ফাঁস হয়ে যাবে।সবাই সবকিছু জানতে পারবে। তোর সমস্ত তথ্য তোর পরিবারের সকল সদস্য এবং তোর সকল বন্ধুদের কাছে যাবে। 

তাঁরা ভিকটিমকে ফোন করে , নিয়মিত এই হুমকি দিতো।

এই সমস্ত চ্যাট রুম এবং টেলিগ্রাম গ্রুপ যেখানে এই সমস্ত অমানবিক কাজ করা হচ্ছিলো। এগুলি দুই ধরণের ছিলো। একটি ছিল Doctor rooms  এবং অন্যটি ছিল NTH ROOMS

Dr. ROOMS এর এডমিনকে Doctor বলা হতো। এই চ্যাট রুমটি অত্যন্ত ব্যায়বহুল ছিলো।সদস্যরা আগে বিটকয়েন বা ক্রিপ্টোতে ফি দিতো। আর এই ফি ১৫০$ ডলার থেকে শুরু হয়ে ১২০০$ ডলার পর্যন্ত যেত। এই মূল্য চ্যাট রুমটির কার্যকলাপের স্তরের উপর নির্ভর করত।

কিন্তু সকল দর্শকদের, এই সকল কাস্টোমারদের , এই চ্যাট রুমগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ছিল NTH ROOM এর প্রতি। সকল দর্শকেরই NTH ROOM এর এক্সেস  পাওয়ার চাহিদা সবচেয়ে বেশি ছিল।

NTH মানে Endless (অসীম)। যার কোন সীমা ছিল না। আর একইভাবে, Nth room এ নির্যাতনের কোন সীমা ছিল না।

Nth Room এর দর্শকরা যখনই অনুভব করতো যে এই ভিডিওটি সবচেয়ে ভয়াবহ এবং অস্বস্তিকর পর্যায়ে চলে গেছে, এবং এর চেয়ে যন্ত্রণাদায়ক আর কিছু হতে পারে না। একই সময়ে, Nth room এ আরেকটি ভিডিও চলে আসতো। এবং এটি আগের ভিডিওটির চেয়েও ভয়াবহ থাকতো।

এই ধরণের প্রতিটি ভিডিওর সাথে সাথে নির্যাতনের মাত্রা বেড়েই চলছিল।Nth room সমস্ত চ্যাট রুম Doctor Room এর চেয়ে বেশি Private & Exclusive মনে হতো। এজন্য ব্যবহারকারীরা আরও একচেটিয়া বোধ করছিল।

কারন Nth room গুলো Doctor Room এর চেয়ে বেশী রোমহর্ষক ছিল। Nth Room গুলি ছিলো আসল নির্যাতন গ্রুফ, যেখানে সবচেয়ে অস্বস্তিকর এবং ভয়াবহ ভিডিওগুলি আপলোড করা হত।Nth Room এর  ক্রিয়েটরকে God God বলা হতো।

Doctor Room এর ওউনার টাকার জন্য পাগল ছিলো।তাঁর টাকার প্রতি আগ্রহ ছিলো। সে এসব করছিল কারণ সে প্রচুর টাকা আয় করতে পারতো। 

কিন্তু God God এই সবকিছু করে পৈশাচিক আনন্দ পেতো।সে টাকার পরোয়া করতো না। তার কাছে এই চ্যাট রুমগুলি তৈরি করা, এই মেয়েদের শিকার করে তার ফাঁদে আটকানো, তাদের উপর নির্যাতন করা এবং এই ভিডিওগুলো শেয়ার করা ছিল একটা ফ্যাশন। God god নির্যাতন , নৃশংশতা এবং যন্ত্রণা উপভোগ করতো।আর God God যখন মানুষের জীবন ধ্বংস করতো তখন সে নিজেকে খুব শক্তিশালী মনে করতো। 

আমি আপনাকে একজন ভুক্তভোগীর গল্প বলি,

১৬ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীর অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছিল।

মূলত, তার ইনস্টাগ্রাম হ্যাক করা হয়েছিল। মেয়েটির ব্যক্তিগত চ্যাটগুলি বের করে নেওয়া হয়েছিল, যেখানে সে তার Bf এর সাথে তার গোপন কথোপকথন ছিল। অ্যাডমিন সেই সমস্ত চ্যাট হ্যাক করে এবং সমস্ত চ্যাটগুলি বের করে আনে।

আর অ্যাডমিন সরাসরি ওই মেয়েটিকে হুমকি দেয় যে এই সব তাঁর স্কুলে ফাঁস হয়ে যাবে। তুমি তোমার বয়ফ্রেন্ডের সাথে কীভাবে কথা বলো এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় কী করো, সে সম্পর্কে তোমার বাবা-মা সবকিছুই জানতে পারবে। 

মেয়েটি ভেবেছিল যে অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা ব্যক্তির কথা শোনাই ভালো। নাহলে সবাই তার সম্পর্কে সত্য জানতে পারবে। তাই সে বলল যে হ্যাকার যা বলবে আমি তাই করতে প্রস্তুত।

হ্যাকার (এডমিন) যে এই সব করেছিল, সে মেয়েটিকে বলে, যে তুমি ছুরি দিয়ে তোমার শরীরে কাটা দাগ দিয়ে লেখো, আমি তোমার দাসী 

কিন্তু তার পরেও ব্ল্যাকমেইল বন্ধ হয়নি। আসলে, এটি মাত্র শুরু ছিলো।

হ্যাকারটি মেয়েটিকে একটি দলীয় স"বাসের ভিডিও বানাতে বলেছিল। সেই সাথে, মেয়েটিকে আরও বলা হয়েছিল যে হ্যাকার তার সমস্ত দর্শকদের সাথে একটি দলীয় ধর্ষ* এর পরিকল্পনা করছে। মূলত, হ্যাকার বা এডমিন Nth rooms এবং Dr. Rooms এর কয়েকজন দর্শককে সেই ছোট্ট মেয়েটির ঠিকানা দিতে যাচ্ছিল।

আর সেই মেয়েটির ঠিকানা দেওয়ার পর, সাবস্ক্রাইবাররা সেই মেয়ের কাছে যেতে পারে এবং তারা যা খুশি করতে পারে। এই সমস্ত কিছুর মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর, সেই বেচারা মেয়েটি এতটাই হতাশ হয়ে পড়েছিল যে সে আত্ম*ত্যা করার চেষ্টা করেছিলো। কিন্তু ভাগ্যক্রমে সে বেঁচে যায়।

ডাক্তাররা বলেছিলো যে মেয়েটির, শরীরে আত্ম-ক্ষতির চিহ্ন ছিল। এবং তারপর থেকে কয়েক মাস ধরে সে থেরাপিতে ছিল। এবং এটি কেবল বললাম একজনের সাথে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা।

প্রতিবেদন অনুসারে, কমপক্ষে ১০৩ জন ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। যার মধ্যে ২৬ জন নাবালিকা। কিন্তু প্রকৃত ভুক্তভোগীর সংখ্যা হাজার হাজার।

দেখা গেছে যে এই চ্যাট রুমগুলির সবচেয়ে কম বয়সী শিকারের বয়স ছিল প্রায় ১২ বছর। এবং প্রকৃত সংখ্যাটি এর চেয়ে কম বলে জানা গেছে।

এই চ্যাট রুমগুলির কন্টেন্টে শিশু পর্নোগ্রাফি ছিল। এবং এর সাথে, পশুদের সাথেও জোরপূর্বক ইন্টিমেট ভিডিও ছিল। 

এই চ্যাট রুমগুলিতে যখনই নতুন কন্টেন্ট আসতো।তখনই দর্শকরা এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিত যে "এখন আমরা আরও ভয়াবহ কিছু রেকর্ড করব এবং এই চ্যাট রুমগুলিতে আপলোড করব।" এই চ্যাট রুমে অনেক অসুস্থ মানসিকতার দর্শক ছিল।

একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ভুক্তভোগীদের এতটাই নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল যে তাদের প্রতিদিনের সময়সূচী অনুসরণ করতে হয়েছিলো। যেমন তারা কখন উঠবে, কী পরবে। এবং প্রতিটি দৈনন্দিন কাজ ভুক্তভোগীদের যা এই গ্রুপের অ্যাডমিনদের কাছে জানাতে হতো।

কারণ সেইসব ভুক্তভোগীদের অনেকেই ইতিমধ্যেই দাসী চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলো। কিছু ক্ষেত্রে, ভুক্তভোগীদের অনলাইন ছাড়াও সামনাসামনি করার জন্যও বাধ্য করা হয়েছিল। যেখানে তাদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হতো।

আপনি বুঝতেই পারছেন যে এই গ্রুপে কেমন Sick Minded অসুস্থ মানসিকতার এডমিন ছিল। এই আর্টিক্যালে আমি যা বলছি তা বানানো গল্প নয়। কোনো দুঃসপ্নও নয়।

এক সাক্ষাৎকারে একজন ভুক্তভোগীর বক্তব্য, সেই ভুক্তভোগী বললো যে "আমি আগে ভাবতাম এটা সব স্বপ্ন। কিন্তু প্রতিদিন একটা নতুন দাবি আসতো। নখ দিয়ে নিজেকে আঁচড়াও।তোমার ত্বকে গরম লোহা লাগিয়ে নিজেকে ছ্যাকা দাও।"ভুক্তভোগীদের কাছ থেকেও এই ধরনের বক্তব্য এসেছে। কিন্তু ভিউয়ারসদের মধ্যেও অনেক নাবালকও ছিল।

একজন সাবস্ক্রাইবার ছিলো ১৮ বছরের এক ছেলে। আর সেই ১৮ বছরের ছেলেটি এতদিন ধরে এই গ্রুপের ভিউয়ার ছিল যে তাকেও এডমিন করা হয়েছিল। মূলত, এই গ্রুপগুলিতে যেই সাবস্ক্রাইবার ছিলো, যদি সে দীর্ঘ সময় ধরে গ্রুপে থাকে, যদি সে এই চ্যাট রুমগুলির প্রতি অনুগত থাকে, তাহলে তাকেও এডমিন করে দেওয়া হতো।আর যখন এই ১৮ বছর বয়সী ছেলেটি নিজেই অ্যাডমিন হয়ে যায়, তখন সে তার বন্ধুদেরও এই চ্যাট রুমগুলিতে জয়েন করে। আর তার বন্ধুরাও অ্যাডমিন হয়ে যায়। 

আপনি হয়তো ভাবছেন, কিভাবে এই সব ঘটছিল? এই গ্রুপের অ্যাডমিন এবং ক্রিয়েটররা কেন ধরা পড়ছিল না? কীভাবে এই জিনিসটি বেরিয়ে আসছিল না? আর এর উত্তর হলো, টেলিগ্রাম।

কারণ টেলিগ্রাম একটি encrypted অ্যাপ। মানে টেলিগ্রামের সমস্ত কথোপকথন গোপন থাকে। এবং কোনও বাইরের কেউ এসে সেগুলি পড়তে পারে না।

টেলিগ্রামের একটি অত্যন্ত কঠোর গোপনীয়তা নীতি রয়েছে। এবং এই চ্যাটটি কেন্দ্রীয় স্তরেও মডারেট করা হয় না। তাই আপনি সহজেই এই অ্যাপে এই ধরণের ভয়াবহ ভিডিও, নির্যাতনের ভিডিও শেয়ার করতে পারবেন। তবে বর্তমানে সম্প্রতি মনিটরিং এর কাজ শুরু করেছে প্লাটফর্মটি এসব এড়াতে।

যাইহোক, এই চ্যাট রুমগুলির অ্যাডমিনরা খুব চালাক ছিল। তারা একাধিক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করত। এবং আইপি ঠিকানাটি Vpn দ্বারা hide রাখতো।

সমস্ত পেমেন্ট ক্রিপ্টোতে করা হতো। যাতে কোনও চিহ্ন অবশিষ্ট না থাকে। আর্টিকেলের শুরুতে এজন্য বলেছিলাম যে এটি এক ধরণের ডার্ক ওয়েব লেভেল অ্যাক্টিভিটি যা সারফেস ওয়েবে ঘটছিল।

যখন God God কে আটক করা হয়েছিল, তখন সে নিজেই বলেছিল যে সে কখনও এই চ্যাট রুমগুলির জন্য তার ফোন ব্যবহার করেনি। এবং সমস্ত লেনদেন এবং অর্থ গিফট ভাউচারের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়েছিল। তাই যখন God God ধরা পড়েছিল, যদি সে তার প্রথম ফোনটি সহ ধরা পড়ার সময় তার অন্য ফোনটিও ফেলে দিত, তাহলে পুলিশের কাছে কোনও প্রমাণই থাকত না যে এই ব্যক্তি God God  এবং সে Nth room তৈরি করেছে।

এই সমস্ত চ্যাট রুম কমপক্ষে ২ বছর ধরে চলতে থাকে যতক্ষণ না এই চ্যাট রুমগুলি বন্ধ করা হয়। এবং তাদের অ্যাডমিন এবং ক্রিয়েটররাও ধরা পড়েনি। এই পুরো ডিজিটাল নরকটি ২০১৯ সালে উন্মোচিত হয় যখন TEAM FLAME নামে এক মহিলা সাংবাদিকের দল ভুয়া মেল অ্যাকাউন্ট তৈরি করে এবং প্রমাণ সংগ্রহের জন্য এই রুমগুলিতে যোগ দেয়।

Team Flame দুজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল। এটি খুব বড় দল ছিল না।Team Flame দলটি গ্রুফের এডমিনদের সাথেও কথা বলে এবং ভুক্তভোগীদের গল্পও শুনে। এবং যখন এই চ্যাট রুমগুলির সমস্ত প্রমাণ সংগ্রহ করা সম্পন্ন হয়, তারপর তথ্যসূত্রসমূহ  সমস্ত সংবাদমাধ্যমে সম্প্রচার করা হয়। পুলিশ এই তথাকথিত যৌন নির্যাতন চক্রের প্রধান সন্দেহভাজনের পরিচয় প্রকাশ করে। আর যখন এই পুরো খবরটি জনসাধারণের সামনে আসে, তখন ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দেয়। এই চ্যাট রুমগুলিতে মোট ২.৫ লক্ষ দর্শক ছিলো

যার মানে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ১ জন এই চ্যাট রুমের অংশ ছিল। আর এটিই ছিলো সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার যার কারণে জনসাধারণ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল। কারণ মানুষ বিশ্বাস করতে পারছিল না যে, প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ১ জন কীভাবে  এই ধরনের চ্যাট রুমের অংশ হতে পারে?

দক্ষিণ কোরিয়ার লক্ষ লক্ষ মানুষ আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন যে এই গ্রুপের সাথে সংশ্লিষ্ট, এই চ্যাট রুমের সাথে জড়িত, এই সমস্ত কার্যকলাপের সাথে জড়িত সকলের নামের একটি তালিকা প্রকাশ করা উচিত। অবশেষে, ২০২০ সালের মার্চ মাসে, পুলিশ জোজু বিনকে গ্রেপ্তার করে, যে ছিলো সেই Doctor (Doctor Rooms এর পরিচালক) । পুলিশ জানতে পারে যে, Doctor সে কোন ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ সেন্টার ব্যবহার করে অর্থ লেনদেন কারবারি করতো।

আর পুলিশ এই ক্রিপ্টো সোর্সটি ট্র্যাক করে এবং Doctor কে ধরে। জনসমক্ষে বিবৃতি দেওয়ার সময় জোজু বিন একটা কথা বলেছিল। 

"আমি যে রাক্ষসকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি, তাঁর জীবন থামানোর জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।"

মনে হচ্ছিল অপরাধবোধের পরিবর্তে, জোজু বিন তার কর্মকাণ্ডে গর্বিত। এবং সে অনুভব করে যে, সে তার কর্মকাণ্ড এমন এক পর্যায়ে উন্নীত করেছে যে তাঁর কোন সমকক্ষ নেই। জোজু বিন যা করেছে, কেউ তাকে হারাতে পারবে না।

৭ মাস পর, পুলিশ তথাকথিত God God যার আসল নাম মুন ইয়ং উক কে হেফাজতে নেয়। আর এই দুজনকে পুলিশ যেমন বয়স ভেবেছিল তেমন দেখতে মোটেও ছিল না। এই দুটি ছেলে খুব ছোট ছিল।

জোজু বিন, যে Doctor, তাঁর বয়স ছিল ২৪ বছর। এবং মুন ইয়ং উক, যে God God, তাঁর বয়স ছিল ২৩ বছর। তাদের সাথে আরও ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে তাঁদের গ্রুফের এবমিনরাও ছিলো, এডমিনদের মধ্যে কয়েকজন নাবালক ছিলো।

অবশেষে, এই সমস্ত চ্যাট রুম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া হয়। জো, যে Doctor, তাঁকে ২০২১ সালের অক্টোবরে ৪২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এবং মুন ইয়ং উক, যে God God, তাঁকে ২০২১ সালের এপ্রিলে ৩৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এই চ্যাট রুমে আটকা পড়া সমস্ত ভুক্তভোগী, সমস্ত নিষ্পাপ মেয়ে, তাদের কাউন্সেলিং দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ক্ষতি অপূরণীয় ছিল। অনেক ভুক্তভোগী তাঁদের চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলো।

অনেক পরিবার ভেঁঙে পড়েছিল । অনেক ভুক্তভোগী PTSD-তেও ভুগতে শুরু করে। এবং এই পুরো ঘটনাটি কেবল ভুক্তভোগীদের জীবনই নষ্ট করেনি, বরং এই পুরো ঘটনাটি সমগ্র সমাজের জন্য একটি আঘাত যে আমাদের সমাজে এমন কতজন মানুষ আছেন যারা এই সমস্ত কার্যকলাপে জড়িত হতে চায় বা এই কার্যকলাপে আগ্রহী হতে চায়।

এই ঘটনাটি প্রকাশের ৫ বছর হয়ে গেছে। কিন্তু আজও, দক্ষিণ কোরিয়ায় ডিজিটাল যৌন অপরাধ ব্যাপক। প্রতি বছর প্রায় ৬,০০০ এরও বেশি এমন মামলা দায়ের করা হয়।কিন্তু মাত্র ১০% দোষী সাব্যস্ত হয়। 

এটি আসলেই করুন যে, ভুক্তভোগীরা কেউ কেউ এখনও লুকিয়ে আছে।তারা ভয় পায় যে তাদের ভিডিও যাতে জনসমক্ষে না আসে। তারা যে ভয়ের মধ্যে বাস করছে তা কল্পনাও করা কঠিন। আর অপরাধীরা! আপনি তাঁদের শাস্তি সম্পর্কে জানেন, তাহলে আপনার মনে হবে যে এই শাস্তি যথেষ্ট নয়।

কারণ, সমাজে এমন মানুষ কীভাবে জন্মায় যারা অন্য মানুষকে বস্তুর মতো ট্রিট করে? এই ঘটনাটি আমাদের শেখায় যে, যোগাযোগ প্রযুক্তি ভুল হাতে পড়লে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে। কিন্তু যদি শারীরিক স্পর্শ ছাড়াই অনলাইনে এই সব নির্মম ঘটনা ঘটতে পারে, তাহলে আসল অপরাধীরাতো কেবল ওউনার এবং এডমিনদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং যারা এই সমস্ত বিষয়বস্তুর প্রত্যক্ষদর্শী তারাও। ভিউয়ার, সাবস্ক্রাইবার, সবাই যারা এই ছবি,ভিডিওর জন্য অর্থ প্রদান করেছিলো, তাঁরা সকলেই অপরাধী।আর তাদের সকলেরই শাস্তি হওয়া উচিত। 

God God  আর Doctor। তাঁদের প্রধান রুল ছিলো কোনোভাবেই ধরা পড়া যাবে না।

তাঁরা প্রতিটি পদক্ষেপে তাঁদের Digital Footprint মুছে ফেলত। তাঁরা খুব ধূর্ত ছিল এবং তাঁরা কোথাও কোনও চিহ্ন রেখে যেত না। যদি তাঁদের সামান্যতম সন্দেহও থাকত, তাঁরা পুরো চ্যাট রুমটি ডিলেট করে দিতো।

হয়তো তাঁদের কিছু গোপন ট্রিকস ছিল যার দ্বারা পুনরায় তাঁরা তাঁদের সাবস্ক্রাইবারদের ফিরিয়ে আনতে পারতো। এই দুই নরপিশাচ চেয়েছিলো পুরো বিশ্ব এই নির্যাতনের ভিডিওগুলি দেখুক। 

যদি একজন ব্যক্তির খ্যাতির লোভ তাকে এমন ভয়াবহ এবং নির্মম অপরাধ করতে বাধ্য করে, এমন অনেক মানুষ আছে যারা খ্যাতির জন্য যেকোনো কিছু করতে প্রস্তুত। আর কিছু মানুষের মন এতটাই কলুষিত যে, তারা একজন মানুষ যা করতে পারে তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ কাজ করা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারে না। 

সর্বদা আপনার চারপাশের পরিবেশের দিকে নজর রাখুন।আপনি কখনোই জানেন না কে কেমন মানুষ, কার মনে কী চলছে। আর আপনি কখনোই জানেন না যে একজন মানুষ যখন একা থাকে,তখন সে কী ভাবে, সে কী করে। আপনি কখনোই জানেন না।

আবারও আরেক আর্টিকেল নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হবো যদি তৌফিক থাকে।সে পর্যন্ত ভালো থাকবেন।সর্বদা আপনার চারপাশের খেয়াল রাখুন। নিরাপদে থাকুন। ফি আমানিল্লাহ্ ,,

Black (A True Teller) 
Published 4 October 2025